Home / খেলাধুলা / শিশুর বিষণ্নতার ঝুঁকি কমায় দলবদ্ধ খেলাধুলা

শিশুর বিষণ্নতার ঝুঁকি কমায় দলবদ্ধ খেলাধুলা

প্রযুক্তিনির্ভরতা শিশুদের দিন দিন ঘরকুনো করে তুলছে। মাঠে-ঘাটে দৌড়ঝাঁপের বদলে তারা ব্যস্ত মোবাইল-কম্পিউটারের ভার্চুয়াল জগৎ নিয়ে। এ পরিবর্তন শিশুর সামাজিকীকরণে যেমন নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে, তেমনি দেখা দিচ্ছে বিষণ্নতার মতো মানসিক জটিলতা। অথচ দলবদ্ধ খেলাধুলাই শিশুদের বিষণ্নতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, দলবদ্ধ খেলাধুলার সঙ্গে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যামপাসের আকার বড় হওয়ার যোগসূত্র রয়েছে। এ হিপ্পোক্যামপাস দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি ও আবেগী প্রতিক্রিয়ার প্রক্রিয়াকরণে ভূমিকা রাখে।

৯ থেকে ১১ বছর বয়সী ৪ হাজার ১৯১ জন শিশু নিয়ে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণা চলাকালে খেলাধুলার মতো বিভিন্ন কার্যক্রমে এ শিশুদের অংশগ্রহণ এবং বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দেয়ার বিষয়ে তাদের মা-বাবার কাছে জানতে চাওয়া হয়।

গবেষকরা জানান, খেলাধুলায় অংশগ্রহণের কারণে দেখা গেছে, শিশুদের হিপ্পোক্যামপাসের আকার বেড়েছে এবং বিষণ্নতা কমেছে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস কাউন্সিল অন স্পোর্টস মেডিসিন অ্যান্ড ফিটনেসের চেয়ারপারসন এবং শিকাগোর অ্যান অ্যান্ড রবার্ট এইচ লুরি চিলড্রেন হসপিটালের ইনস্টিটিউট ফর স্পোর্টস মেডিসিনের মেডিকেল ডিরেক্টর সিনথিয়া লাবেলার মতে, গবেষণার এ ফলাফলের তাত্পর্য রয়েছে। তিনি বলেন, দলবদ্ধ খেলায় নিয়মিত অ্যারোবিক কার্যকলাপ করতে হয়, যা স্মৃতি, বুদ্ধিমত্তা ও মেজাজের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

তিনি আরো বলেন, খেলাধুলা শিশুদের সমবয়সীদের সামাজিক নেটওয়ার্কে যুক্ত করে। এতে তাদের মধ্যে অভিপ্রায়, একাত্মতা ও অর্জনের বোধ সৃষ্টি হয়। এসব বিষয় বিষণ্নতা রোধে ভূমিকা রাখে।

মনিকা জ্যাকম্যান নামের ফ্লোরিডার এক থেরাপিস্টের মতে, দলবদ্ধ খেলাধুলার আরো অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। এ ধরনের কার্যকলাপে শিশু পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা, দলবদ্ধতা, সহমর্মিতা ও নিয়মানুবর্তিতার মতো বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *